হজরত মাওলানা আব্দুল আহাদ জিহাদীর বিরুদ্ধে মিডিয়া ও সাংবাদিকদের মাইক্রোফোন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ।
~2.jpg)
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজারের কালী প্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক ওয়াজ মাহফিলে মিডিয়া ও সাংবাদিকদের মাইক্রোফোন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে জনপ্রিয় বক্তা হজরত মাওলানা আব্দুল আহাদ জিহাদীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে গত ১২ অক্টোবর, বুধবার রাতে। জানা যায়, ওইদিন মাহফিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ও ইউটিউব চ্যানেলের সাংবাদিক ও ভিডিওগ্রাফাররা। তারা মূলত এসেছিলেন বিখ্যাত ইসলামী বক্তা হযরত মাওলানা মুফতি উসামা গণি সারেহী-র ওয়াজ ধারণ করতে।
তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাহফিলের মঞ্চে ওঠেন হযরত মাওলানা আব্দুল আহাদ জিহাদী। উপস্থিত মিডিয়া কর্মীরা জানতেন যে, প্রায় এক বছর ধরে তার ওয়াজের ভিডিও ধারণ ও প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই কারণে তারা তার স্টেজে ওঠার সাথে সাথেই ক্যামেরা, মোবাইল ও মাইক্রোফোন বন্ধ করে রাখেন।কিন্তু বক্তা স্টেজে ওঠার পরপরই নির্দেশ দেন “সব মাইক্রোফোন খুলে ফেলো, নিচে ফেলে দাও।” মুহূর্তের মধ্যেই তার অনুসারীরা স্টেজের পাশে রাখা সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীদের মাইক্রোফোন খুলে টেনে হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এতে বেশ কিছু মাইক্রোফোন ছিঁড়ে বা ভেঙে যায়, যার প্রতিটির দাম আনুমানিক তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এসেছিলাম মুফতি উসামা গণি সারেহীর বক্তব্য ধারণ করতে। কিন্তু তিনি না আসার আগে জিহাদী সাহেব স্টেজে উঠেই এমন আচরণ করলেন যা কারও কাছেই কাম্য নয়।”
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “সম্ভবত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা বিতর্কিত বক্তব্যের ইতিহাস রয়েছে, তাই ভিডিও ভাইরাল হওয়া এড়াতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন।” অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, “তার বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর বিষয় থাকায় তিনি চান না সেটি প্রচারে আসুক।”ঘটনার পর এখনো কোনো আইনি অভিযোগ দায়ের না হলেও স্থানীয় সাংবাদিক মহল বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা বলেন, “মাহফিল আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর বাণী প্রচারের স্থান, সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য।”
